
বান্দরবানের বগালেকে ঘুরতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু। কয়েক মিনিটের একটি সিদ্ধান্ত কেড়ে নিল দুই তরুণ প্রাণ।
বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক ভিউ পয়েন্ট সংলগ্ন পাহাড়ি খাদ থেকে নিখোঁজ দুই পর্যটক মো. জামির উদ্দিন (৩২) ও রোকাইয়া আক্তারের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছয়টি মোটরসাইকেলে ১০ সদস্যের একটি দল বগালেক ভ্রমণে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা বগালেক ভিউ পয়েন্টে ঘুরতে যান। দলটির গাইড সবাইকে নির্ধারিত নিরাপদ এলাকা থেকে বাইরে না যেতে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু জামির ও রোকাইয়া সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি এপাচি ৪ভি মোটরসাইকেলে নিষিদ্ধ অংশের দিকে চলে যান।
অনেকক্ষণ ফিরে না আসায় গাইড সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে বগালেক আর্মি ক্যাম্পে খবর দেন। এরপর সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিউ পয়েন্টের পাশের একটি গভীর পাহাড়ি খাদ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জামির উদ্দিনের বাড়ি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দীন উপজেলার বড় মানিকা এলাকায়। রোকাইয়া আক্তারের বাড়ি ঢাকার লালবাগে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটল?
পাহাড়ি এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত গাইডরা সাধারণত যে সব স্থানে যেতে নিষেধ করেন, সেগুলোতে কয়েকটি বড় ঝুঁকি থাকে।
• রাস্তার পাশে নিরাপত্তা ব্যারিয়ার থাকে না।
• পাহাড়ি মাটি বৃষ্টির কারণে নরম ও পিচ্ছিল হয়ে যায়।
• অনেক জায়গায় হঠাৎ গভীর খাদ শুরু হয়, যা দূর থেকে বোঝা যায় না।
• সন্ধ্যার পর দৃশ্যমানতা দ্রুত কমে যায়।
• মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় জরুরি সহায়তা পেতে সময় লাগে।
বাংলাদেশের পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বারবার মনে করিয়ে দেন, পাহাড়ে ভ্রমণের সময় গাইডের নির্দেশনা মানা শুধু নিয়ম নয়, জীবন রক্ষার অন্যতম শর্ত।
এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, একটি সুন্দর ছবি বা কয়েক মিনিটের রোমাঞ্চ কখনোই জীবনের চেয়ে মূল্যবান নয়। পাহাড়, সমুদ্র কিংবা ঝরনা, সব জায়গাতেই নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলাই একজন দায়িত্বশীল ভ্রমণকারীর পরিচয়।
#sad #sadstory #trendingnow