
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলামের বিরল দৃষ্টান্ত: সরকারি খাল খনন শেষে বেঁচে যাওয়া ৭৮ লাখ টাকা কোষাগারে ফেরত
মো জুয়েল রানা,কসবা (ব্রাহ্মণবকড়ীয়া) প্রতিনিধি:- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সততা ও স্বচ্ছতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছামিউল ইসলাম । দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের পর, সাশ্রয় হওয়া ৭৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এতে কেবল রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ই রোধ হয়নি, বরং সেচ সুবিধা বাড়ায় কসবায় শুরু হয়েছে তিন ফসল উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা।
জলাবদ্ধতা নিরসন আর কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় হাত দেওয়া হয় দুটি বড় খাল খনন প্রকল্পে। ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা খরচে জিয়াখালের ৪ কিলোমিটার এবং ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দে সিনাই নদীর ৬ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করে উপজেলা প্রশাসন।তবে চমক দেখা যায় কাজের সার্বিক হিসাব-নিকাশে। কাজের গুণগত মানে কোনো ছাড় না দিয়েও, দুই প্রকল্প থেকে সাশ্রয় হয় প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা। বেঁচে যাওয়া এই ৭৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা ইতিমধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।
খাল দুটি পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় কসবার বিস্তীর্ণ কৃষিভূমিতে এখন বইছে স্বস্তির বাতাস। শুধু সেচ সুবিধাই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। খনন শেষে সিনাই নদীর তীরে ৩ হাজার ২০০টি এবং জিয়াখালের দুই পাড়ে ২ হাজার ২০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের নামে যেখানে প্রায়ই বাড়তি বরাদ্দের দাবি ওঠে, সেখানে কসবা উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।