
কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে মাঠে বিএনপি
সাথী আক্তার, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) সংসদীয় আসনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে কার্যত অগ্রাহ্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। কেন্দ্র থেকে জোট মনোনীত প্রার্থী নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজের নির্দেশ দেয়া হলেও তৃণমূল বিএনপি তা মানতে নারাজ। বিএনপি’র বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে জোট প্রার্থী, ডাকসু’র সাবেক ভিপি ও গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসানের পক্ষেই মাঠে থাকবেন। স্থানীয় বিএনপি জোট প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় না হওয়ায় গত ৭ই জানুয়ারি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন ভিপি নুর, এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। দলীয় সূত্র জানায়, এ আসনে বিএনপি’র শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। তবে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপি জোট শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ২৯শে ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন হাসান। এর পরদিন ৩০শে ডিসেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
এরপর একাধিক দফা নির্বাচনী মাঠ থেকে তাকে সরানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি অনড় থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১১ই জানুয়ারি গলাচিপা ও ১২ই জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিশেষ দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, পটুয়াখালী জেলা বিএনপি’র সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মজিবর রহমান টোটনসহ শীর্ষ নেতারা। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিলকিস জাহান শিরিন জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানতে হবে এবং জোট প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে, এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে গলাচিপা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আ. সত্তার হাওলাদার বলেন, হাসান মামুন তৃণমূল নেতাকর্মীদের সম্মতিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যত বড় চাপই আসুক, আমরা তার সঙ্গেই নির্বাচনী মাঠে থাকবো। দশমিনা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু সিকদার বলেন, দশমিনা ও গলাচিপার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে হাসানের পক্ষে রয়েছে। সব বাধা উপেক্ষা করে আমরা তাকেই বিজয়ী করবো। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান বলেন, গত ৩৭ বছর ধরে দশমিনা-গলাচিপার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা এই নির্বাচনে বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরবে। তিনি আরও বলেন, ২৭শে ডিসেম্বর আমি বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। এরপর ২৯শে ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিল করেছি। সুতরাং আমাকে বহিষ্কারের দাবি রাজনৈতিক প্রচারণা ছাড়া কিছু নয়।
বিএনপির মনোনয়ন কমিটির উচিৎ মাঠ পর্যয়ে যাচাই-বাছাই করে জোটের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া কারণ অনেক সময় দেখা যায় দলে পরিক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতা কে বাদ দিয়ে জোটের কোনো একজন কে মনোনয়ন দেই এক্ষেত্রে দলের সমর্থক কর্মীদের মেনে নিতে ভীষণ কষ্ট হয়।