
প্রশাসনের অভিযানের পরও থামেনি সুগন্ধা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: রাতের আঁধারে সক্রিয় সিন্ডিকেট, বাড়ছে নদীভাঙনের শঙ্কা
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি জেলাজুড়ে অবৈধ বালু উত্তোলন, মজুদ ও পরিবহনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান চললেও সুগন্ধা নদীতে রাতের আঁধারে এখনো থামেনি অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ড্রেজারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে।
নদী রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গত ১২ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন। অভিযানে অর্থদণ্ড প্রদান, অবৈধ বাল্কহেড জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ জুলাই বিকনা ব্র্যাক মোড় এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর ৩৩ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে মোট ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
১৩ জুলাই পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণকাঠি এলাকার সুগন্ধা নদীতে অভিযান চালিয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ লঙ্ঘনের অভিযোগে একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বাল্কহেড নৌ-পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তদের না পাওয়ায় কাউকে জরিমানা করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া ১৯ জুলাই সদর উপজেলার গাবখান সেতু ও গাবখান চ্যানেল সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে অনুমতিবিহীন বাল্কহেডে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের দায়ে একজনকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের অভিযান চললেও রাতের বেলায় সুগন্ধা নদীতে একাধিক ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। এলাকায় এমন কথাও প্রচলিত রয়েছে যে সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রশাসনকে “ম্যানেজ” করে বালু উত্তোলন করছে। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন বা সরকারি কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের মতে, অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, স্রোতের গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে নদী তীরবর্তী বসতি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নদী তীরবর্তী পরিবেশ রক্ষা, সরকারি বিধি-নিষেধ কার্যকর রাখা এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্রের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, নিয়মিত নজরদারি, রাতের অভিযান এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।