চলতি বছর জেলাজুড়ে মোট ১৬০টি পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজা আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সর্বজনীন এই উৎসবকে নিরাপদ করতে প্রতিটি মণ্ডপে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।
এ বিষয়ে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে পূজা উদযাপন করতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
উপজেলার বিনায়কঠি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী 'রায় বাড়ি পূজামণ্ডপে' প্রতি বছরের মতো এবারও বইছে উৎসবের আমেজ। সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত রায় বাড়ির শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির। উল্লেখ্য, রায় বাড়িতে এবার ৩৫৭তম দুর্গা উৎসব পালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার বাসণ্ডা ইউনিয়নের 'বেতলোস পূজামণ্ডপে' আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি যাতায়াত নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দর্শনার্থীরা।
মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি জানান, পূজা মণ্ডপে যাতায়াতের রাস্তাটির বেহাল দশা। কাঁচা ও ভাঙাচোরা হওয়ায় হেঁটে চলাচল করাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও নারী দর্শনার্থীরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মণ্ডপ সংলগ্ন স্থানেই বেতলোস প্রাইমারি স্কুল অবস্থিত হওয়ায় শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন একই কষ্ট ভোগ করতে হয়। এলাকার সার্বিক সুবিধা ও দুর্গোৎসবের বিষয় বিবেচনা করে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
সার্বিকভাবে ঝালকাঠি জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির আবহে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করছেন ভক্তরা।