কেওড়া ইউনিয়নে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান তালুকদার
মেহেদী হাসান,বিশেষ প্রতিনিধি :
ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৪ নং কেওড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. মিজানুর রহমান তালুকদারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঝালকাঠি জেলা শাখা।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি এলাকার দলীয় কার্যালয়ে স্থানীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌর কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত সমাবেশে তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান।
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ওই সমাবেশে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি, জনসম্পৃক্ততা ও প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ইউনিয়নের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ৪ নম্বর কেওড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মিজানুর রহমান তালুকদারের নাম ঘোষণা করেন।
মিজানুর রহমান তালুকদার কেওড়া ইউনিয়নের আইহর গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এস.এস. (অনার্স), এম.এস.এস. (মাস্টার্স), এলএল.বি ও এলএল.এম। পেশাগত জীবনে তিনি ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি জনসেবা, মানবিক সহায়তা ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মিজানুর রহমান তালুকদার ১০ দফা কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে সহজ ও হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং রাস্তা, সেতু ও কালভার্টের উন্নয়ন ও সংস্কার।
এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, মানসম্মত শিক্ষার প্রসার এবং মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। কৃষক, জেলে ও শ্রমিকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে সহযোগিতা, যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ এবং দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমঅধিকার নিশ্চিত করার কথাও তাঁর কর্মপরিকল্পনায় রয়েছে।
মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘জনসেবা কোনো ক্ষমতা নয়, এটি একটি দায়িত্ব ও আমানত।’ জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করাই তাঁর অঙ্গীকার। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে কেওড়া ইউনিয়নকে নিরাপদ, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকারে জনগণের সেবা করার জন্য সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন। জনসেবা কোনো ক্ষমতা নয়, এটি আমানত। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।