গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদযাপিত
সাথী আক্তার
বিশেষ প্রতিনিধি, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
"জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান - টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গলাচিপায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে 'বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬' উদযাপিত হয়েছে। প্রতি বছর ১ আগস্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ দিবস পালিত হওয়ার পাশাপাশি ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদযাপিত হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি হাসপাতালের প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ডা. ফাহিমা ইসলাম লিজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মাতৃদুগ্ধ পানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভার মূল বিষয়বস্তু:
জন্মের পরপরই নবজাতককে শালদুধ পান করানো।
শিশুর বয়স প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো।
পরবর্তী সময়ে উপযুক্ত পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি দুই বছর বা তারও বেশি সময় মাতৃদুগ্ধ পান অব্যাহত রাখা।
মা, বাবা, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, স্বাস্থ্যসেবাদানকারী, কমিউনিটি, কর্মক্ষেত্র এবং ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ভূমিকা।
মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশুখাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুখাদ্য ও এর সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
আলোচনা সভা শেষে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কনসালট্যান্ট ডা. মোহাম্মদ আল-আমিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নোমান পারভেজ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আভাস’-এর প্রতিনিধি শেখ মনি উদ্দিন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মেডিকেল অফিসার, নার্সিং সুপারভাইজার, নার্স, মিডওয়াইফ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, আনসার সদস্য, স্থানীয় সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন সুধীজন অংশ নেন।