উপকূলের জলবায়ু সংকট, সমাধান খুঁজছে নলছিটির স্কুল শিক্ষার্থীরা
নলছিটি প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, শান্তি ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়াতে ঝালকাঠির নলছিটির প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘যুব সৃজনশীল সমাধান অনুসন্ধান কর্মশালা’। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি ও অহিংসা বিষয়ক সংগঠন পিস ই বেনে অহিংসা সেবা-এর সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে ইয়ুথনেট গ্লোবাল।
কর্মশালায় বিদ্যালয়ের ইয়ুথ ক্লাইমেট ক্লাবের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, স্থানীয় পরিবেশগত ঝুঁকি, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শান্তি, সহনশীলতা ও তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। দলভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সমস্যা বিশ্লেষণ, সৃজনশীল চিন্তা, সহযোগিতা এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরির বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
নলছিটি ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি মানুষের জীবন ও জীবিকায় প্রভাব ফেলছে। এসব সংকট মোকাবিলায় শুধু প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা, সামাজিক সংহতি ও শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে শান্তিপূর্ণ ও সৃজনশীল সমাধানের ধারণা উপস্থাপন করে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ইয়ুথ ক্লাইমেট ক্লাবের দুই শিক্ষক উপদেষ্টা, ইয়ুথনেট গ্লোবালের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান শুভ এবং বিভাগীয় সমন্বয়কারী সাজিদ মাহামুদ।
প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ইয়ুথনেটের এই উদ্যোগে আমাদের বিদ্যালয়কে যুক্ত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা কাজ করলে তাদের মধ্যে সচেতনতা, নেতৃত্ব, শান্তির মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।”
ইয়ুথনেট গ্লোবালের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান শুভ বলেন, “জলবায়ু সংকটের অন্যতম ভুক্তভোগী তরুণ প্রজন্ম। অথচ এই সংকট তৈরিতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। তাই শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানানো যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের নিজেদের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। জলবায়ু সংকট অনেক সময় সামাজিক চাপ, বৈষম্য ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শান্তি, অহিংসা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার চর্চার মাধ্যমে তরুণদের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। ‘যুব জলবায়ু কার্যক্রম ও শান্তি’ উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।”
ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় সমন্বয়কারী সাজিদ মাহামুদ বলেন, “আমরা ইয়ুথ ক্লাইমেট ক্লাবের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জলবায়ু নেতৃত্ব ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য তাদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও দায়িত্বশীলতা বিকাশ করা জরুরি।”
কর্মশালায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার বলেন, “আগে মনে করতাম জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বড়দের বিষয়। কিন্তু এই কর্মশালার মাধ্যমে বুঝতে পেরেছি, আমরাও ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা, শান্তি ও ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারি।”
আয়োজকেরা জানান, ‘যুব জলবায়ু কার্যক্রম ও শান্তি’ উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে জলবায়ু সচেতনতা, নেতৃত্ব, শান্তি, অহিংসা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার চর্চা বাড়ানো হবে। ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যালয়ভিত্তিক জলবায়ু নেতৃত্ব তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ ও টেকসই পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।