ঝালকাঠির মিলন খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণশালার প্রতিষ্ঠাতা
রিপোর্ট : ইমাম বিমান
খুলনা নগরীর ইকবালনগর এলাকায় ৩৬, আয়েশা কটেজে অবস্থিত খুলনা আর্ট একাডেমি একটি সুপরিচিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিল্পচর্চার পাশাপাশি যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছে হারিয়ে যেতে বসা অতীতের স্মৃতি সম্বলিত দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহার্য্য আসবাবপত্র ।
এ বিষয় প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস জানান,
“অচলকে সচল রাখতে চাই। শৈশবের স্মৃতিবাহী রেডিও, ওয়াকম্যান কিংবা ফাউন্টেন পেন এসব আমাদের ইতিহাসের অংশ, যা আজ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমি চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো সংরক্ষিত থাকুক। তিনি আরও জানান, আশি ও নব্বই দশকের এবং ষাট দশকের প্রথম দিকের প্রায় তিন শতাধিক মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী ইতোমধ্যে সংরক্ষণশালায় যুক্ত হয়েছে। একাডেমির শিশু শিল্পী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরাও নিজ নিজ ঘরে থাকা পুরনো ঐতিহ্যবাহী জিনিস উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন। এছাড়া আলো মিডিয়া গ্রুপের সভাপতি আহমেদ হোসাইন ছানু এবং কবি মোঃ জাবেদুল ইসলাম কুরিয়ারের মাধ্যমে বেশ কিছু মূল্যবান ঐতিহ্যবাহী উপকরণ পাঠিয়েছেন। অনেক শুভানুধ্যায়ীও এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত নিজ জন্মস্থান ঝালকাঠির তরুণদের উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে মিলন বিশ্বাস আরো বলেন, “নবীন প্রজন্মের এমন আগ্রহ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তারা মনোযোগ দিয়ে সবকিছু দেখেছে, প্রশ্ন করেছে এটাই আশার আলো।” তিনি তাদের জন্য আশীর্বাদ কামনা করেন, যেন এই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তারা আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। আমি দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্য সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত মাতৃভূমির তথা নিজ জেলা ঝালকাঠির সন্তান শিফাত হাওলাদার ও মোঃ জুম্মান হাওলাদার নামে ২জন যুবক। শিফাত হাওলাদার এবং মোঃ জুম্মান হাওলাদার খুলনা আর্ট একাডেমির ঐতিহ্য সংরক্ষণশালা পরিদর্শন করেন যে বিষয়টি আমাকে আরো অনুপ্রনিত করে।
পরিদর্শনকালে অতিথিরা সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উপকরণ হাতে তুলে নিয়ে দেখেন শিফাত হাওলাদার একটি ঐতিহ্যবাহী হুক্কা এবং মোঃ জুম্মান হাওলাদার পুরনো লোহার আয়রন হাতে নিয়ে অতীতের ব্যবহারিক ইতিহাস অনুভব করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস। সংরক্ষণশালার সংগ্রহ দেখে অতিথিরা মুগ্ধতা প্রকাশ করেন এবং এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে শিল্পচর্চার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। শেষে অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবারও আসার আমন্ত্রণ জানান চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস।