নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের ফুলেল শুভেচ্ছা: কসবায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
মো জুয়েল রানা, নিজস্ব প্রতিবেদক, কসবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেই শুভেচ্ছার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলাজুড়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনার-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ছবিতে দেখা যায়, কসবা উপজেলার ৫নং বিনাউটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে এই ছবি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিনাউটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আলম খান (বেদন) জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বলেন, "আমি স্থানীয় সরকারের অধীনে কাজ করি। সরকারি দল হিসেবে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আমাকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। হোক সে দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জামায়াত—তা বিষয় নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি জনগণের ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি এবং আমার মূল লক্ষ্য হলো জনগণের সেবা করা। সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে যা যা করণীয়, আমি তা-ই করবো। এখানে রাজনীতির চেয়ে জনসেবা আমার কাছে বড়।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সাথেও যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই মন্তব্য করেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে তাকে কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, "আমি স্থানীয় সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালন করছি। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে যে কোনো দলের সাথেই সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জামায়াত—যাই হোক না কেন, জনগণের স্বার্থে আমাকে সবার সাথে সমন্বয় রাখতে হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি তাদের সেবা করার জন্য। জনগণের সেবা করতে গিয়ে প্রশাসনিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যা করা প্রয়োজন, আমি তা-ই করবো। আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে এলাকার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।"
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট গুঞ্জনকে তিনি স্বাভাবিক প্রশাসনিক শিষ্টাচার হিসেবেই দেখছেন বলে জানান। মূলত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং এলাকার উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবেই এই শুভেচ্ছা বিনিময় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, দুই চেয়ারম্যানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পরবর্তীতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা চললেও, একে ইতিবাচক উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টদের অনেকে।