মহিপুর–কুয়াকাটায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত: ৩৮ খাল পুনঃখননের প্রস্তাব পাঠালেন এসিল্যান্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং কুয়াকাটা পৌরসভায় জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মোট ৩৮টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের একটি বিস্তৃত প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, দখল ও ভরাটের কারণে এলাকার অধিকাংশ খাল তাদের স্বাভাবিক নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষা এলেই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, ডুবে যায় রাস্তা-ঘাট, বসতভিটা ও কৃষিজমি। এতে করে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খালগুলো সচল না থাকায় জমিতে পানি জমে থাকে দীর্ঘসময়, ফলে সময়মতো ফসল আবাদ করা সম্ভব হয় না। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন, স্থানীয়দের মতামত এবং বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করে ৩৮টি গুরুত্বপূর্ণ খালের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য উপকারিতা বিস্তারিতভাবে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, খালগুলো পুনঃখনন করা হলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও স্বাভাবিক থাকবে এবং খরার সময় পানির সংকট অনেকাংশে কমে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, খালগুলো পুনরুজ্জীবিত হলে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসবে।
জেলেরা মনে করছেন, খালগুলোতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়বে, যা তাদের জীবিকা নির্বাহে বড় সহায়তা করবে।
পরিবেশবিদদের মতে, খাল পুনঃখনন শুধু জলাবদ্ধতা নিরসন নয়, বরং এটি একটি টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার অংশ। এতে করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সহজ হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবনাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত অনুমোদনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
অনুমোদন পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে সরকারের কাছে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
সবমিলিয়ে, ৩৮টি খাল পুনঃখননের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মহিপুর ও কুয়াকাটা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে এবং কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।