ঝালকাঠিতে অস্বাস্থ্যক সেমাইয়ের মহোৎসব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ
রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু,ঝালকাঠি : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে সেমাইয়ের রমরমা বাণিজ্য। তবে উৎসবের সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মেতে উঠেছে জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলায়। ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন কারখানায় কোনো প্রকার বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা ও সাধারণ সেমাই। পোড়া তেল আর মানহীন উপকরণের মিশ্রণে তৈরি এসব সেমাইকে স্থানীয়রা ‘বিষ’ হিসেবে দেখছেন।
বুধবার (৪ মার্চ) সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের পর জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হলে তারা তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে। এসময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরির অপরাধে শহরের কাঠপট্টি এলাকার ‘মেসার্স মদিনা ফুড প্রোডাক্টস’-কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে জরিমানার খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্য কারখানাগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। এর আগে সরেজমিনে মদিনা ফুডসে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে ভ্যাপসা গন্ধ আর নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাই। সেখানে দিনের পর দিন ব্যবহৃত ঘন কালো পোড়া তেলে ভাজা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। কারখানার মালিক মোঃ নান্নু মিয়া এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
একই এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের মালিকানাধীন ‘কুলসুম ফুডসে’ গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে স্কুলগামী কিশোর ও শিশুদের।একাধিক কিশোরকে দিয়ে নোংরা পরিবেশে কাজ করানো হচ্ছে। শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে অল্প মজুরিতে এসব কোমলমতি শিশুদের দিয়ে সেমাই তৈরির কাজ করানো হচ্ছে।
এদিকে শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি টিএনটি এলাকায় অবস্থিত জেলার সব থেকে বড় কারখানা ‘মক্কা ফুডস’-এর বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। ইতিপূর্বে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে একাধিকবার জরিমানা করা হলেও বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেখানে গেলে কারখানার মালিক পরিচয়দানকারী মোঃ আরিফ সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে দেখা যায়, স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে রাখা হয়েছে আটা ও ময়দার খামির, যার পাশেই উড়ছে মাছি।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর সভাপতি সত্যবান সেন গুপ্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,ঈদের আগে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা করছে।এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের উচিত কেবল নামমাত্র জরিমানা নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে যাতে কেউ মানহীন পণ্য বাজারেছাড়তে না পারে।
অভিযান প্রসঙ্গে জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার ফয়েজ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কারখানাগুলো নিয়মিত ভিজিট করছি। মদিনা ফুডকে জরিমানা করা হয়েছে। মান নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত আছে।'
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা জানান, 'বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ও মান ঠিক রাখতে আমাদের টিম কাজ করছে। অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এই তদারকি পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় চলবে।'