আগামীতে তরমুজ চাষীদের চরের জন্য কোন টাকা দিতে হবেনা, নিজেদের পকেট থেকে সরকারকে রাজস্ব পরিশোধ করবো-জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মহিবুল্লাহ এনিম
সাথী আক্তার, বিশেষ
প্রতিনিধিঃ গলাচিপা, পটুয়াখালী
উপজেলার সর্বদক্ষিণ ও প্রত্যন্ত অবহেলিত দ্বীপাঞ্চল চরবিশ্বাস ইউনিয়নের একটি স্থান চরবাংলা। চরবাংলার ঘটনা আজকে একদিনের নয়। এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে তরমুজ চাষের একদম শুরুর মৌসুম থেকে শুরু করে এই চরবাংলায় একাধিক চর দখল নিয়ে মানুষের মধ্যে মারামারি হয়ে আসছে। যার ফলশ্রুতিতে গুরুতর আহত হয়ে এই চরাঞ্চলের একাধিক ব্যক্তিবর্গ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বিগত দিনে এরকম অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে।
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের স্পষ্ট ঘোষণা তরমুজকে কেন্দ্র করে কোনো চাঁদাবাজি, ঘাটে বাধা দেওয়া বা তরমুজ আটক করা যাবে না। যে তরমুজ চাষ করেছে সে নিজের তরমুজ নিজে তুলবে। এখানে কোনো বিকল্প নেই। আমি এখানে ঘোষণা দিয়েছি আগামীতে যারা এই চর থেকে তরমুজ চাষ করবেন, কোনো চরের জন্য আপনাদের একটা টাকাও দিতে হবে না। প্রয়োজনে আমরা নিজেদের পকেট থেকে সরকারকে রাজস্ব পরিশোধ করবো, কিন্তু কৃষকরা বিনামূল্যে জমি পাবেন। আমরা ভূমিহীন কৃষকদের পাশে আছি। নির্বাচনের আগে যেমন অঙ্গীকার করেছি, এখনো সেই অঙ্গীকার রক্ষা করবো কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করবো।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা তরমুজ চাষিদের উদ্দেশ্য এ বার্তা দিলেন যুব অধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিবুল্লাহ এনিম। ৫ মার্চ (বুধবার) রাত ৮ টার দিকে চরবাংলা বাজারে গণঅধিকার পরিষদের ইউনিয়ন কার্যালয়ে সকল ভুমিহীন কৃষকদের নিয়ে সমঝোতা মূলক আলোচনা সভা করেন।
তিনি বলেন, আজকে আমরা এখানে এসেছি বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্বের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে এই এলাকার সাধারণ মানুষের ভোটে জাতীয় নেতা প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর এখান থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন এবং পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। সেই জায়গা থেকে এই জনপদের মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার রয়েছে। আমরা শুনতে পেয়েছি পূর্বের কলহের জের ধরে আবারও প্রকৃত তরমুজ চাষীরা ফসল বিক্রির সময় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে চর বিশ্বাসের চর বাংলা, চর পোটকা, পাঙ্গাশিয়ার চর, দশমিনার লালচর, চর ফাতেমা, চর বোরহানসহ একাধিক চরে ঝামেলা চলছে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
তিনি আরও বলন, আমরা এই বিষয়গুলো আমাদের পটুয়াখালী জেলার সম্মানিত ডিসি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তিনি গলাচিপাতে একটি ভিজিটে এসেছিলেন, তখন গলাচিপা অফিসে বসেও আমি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। সেখানে আমি বলেছিলাম এই চরাঞ্চলের মানুষের অসুবিধাগুলো বিবেচনায় নিয়ে এই চরকে কিভাবে মানুষের মাঝে বিতরণ করা যায় এবং সরকারিভাবে কী প্রক্রিয়া আছে সেই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা সেই সময় থেকে চেষ্টা করেছি এই চরের সমস্যা নিরসনের জন্য। গলাচিপা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছি। কিন্তু আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি কিছু সিন্ডিকেট চক্র ও দালাল চক্র এক জমি একাধিকবার ক্রয় করেছে, প্রত্যয়ন নিয়েছে, ডিসিআর নিয়েছে। মামলা হয়েছে, ডিসিআর বাতিল হয়েছে, প্রত্যয়ন বাতিল হয়েছে। এই ধরনের নানান ঘটনা আমরা উপলব্ধি করেছি।
তিনি বক্তব্যে বলেছেন, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরের পরিবারের কেউ ভাই, বাবা, আত্মীয়স্বজন কেউ যদি আপনাদের হয়রানি করতে আসে, আপনারা সরাসরি জানাবেন। কোনো অবৈধ সুবিধা নেওয়া হবে না। আমরা স্বচ্ছ ও সততার সাথে কাজ করবো। ঘাটে চাঁদাবাজি চলবে না। হরিদাবপুর থেকে আমখোলা পর্যন্ত কোথাও কৃষকদের এক টাকাও হয়রানি করা যাবে না। আমরা প্রশাসনকে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছি। জেলে ভাইদের ছোট জাল ফেলতে গেলে চাঁদা দিতে হবে এই সিস্টেম আর চলবে না। যার জাল আছে সে মাছ ধরবে, হাটে গিয়ে বিক্রি করবে। কৃষক ও খামারিরা গরু-মহিষ চরাতে পারবে। গরিবের হক মেরে খাওয়া যাবে না। আমরা অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। ভবিষ্যৎ নিয়ে এগোতে চাই। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করবো। রাস্তাঘাট উন্নয়ন, টিউবওয়েল স্থাপন, মসজিদ উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন—পর্যায়ক্রমে সব করবো। ইতিমধ্যে মাদ্রাসায় টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমরা চাই আপনারা পাশে থাকুন। দলমত-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে একটি কল্যাণমুখী সমাজ গড়তে কাজ করবো। আমাদের ঘোষণা এক কথায় চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ভূমিদস্যুতা চলবে না। অবৈধ সুবিধা আমরা নেব না, দেবও না। অফিস-আদালতে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে আমাদের নিজেদেরও পরিবর্তন হতে হবে। কেউ নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের সাথে কথা বলেছেন সরকারি সুবিধা সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছাতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। মাদক যুবসমাজ ও পরিবার ধ্বংস করে। বিক্রেতা ও সেবনকারী দু’পক্ষের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। দলের লোক বা আত্মীয় হলেও কোনো সুপারিশ চলবে না।
তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যারা অত্যন্ত প্রতিকূল সময় এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি বিশেষ করে নদীর আবহাওয়াটা খুবই খারাপ ছিল। তার ভিতরেও আপনারা আমাদের সাথে এখানে এসেছেন এই গলাচিপা-দশমিনা বিশেষ করে গলাচিপা উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর চরবাংলা পোটকার চর সহ এই চরে আমরা ইতিমধ্যে এসেছি। আপনারা এখানে দেখেছেন শত শত এই চরের অবহেলিত মানুষ তারা আমাদের কাছে এখানে এসেছে। তাদের কথাবার্তা ইতিমধ্যে আমরা শুনতে পেরেছি।