গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক ২০২৫ উপলক্ষে বরিশালে মানববন্ধন ও র্যালি।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ন্যায্য রূপান্তরের দাবিতে বরিশালের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে “গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক ২০২৫” উপলক্ষে মানববন্ধন ও র্যালির আয়োজন করে ইয়ুথনেট গ্লোবাল। এতে অংশ নেন সংগঠনের সদস্য, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে নানা ধরনের সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান। সকলের কণ্ঠে একসুরে উচ্চারিত হয়— “কাউকে পেছনে ফেলে নয়, ন্যায্য রূপান্তরের এখনই সময়।”
ইয়ুথনেট গ্লোবাল-এর সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান শুভ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখনই সময় একসাথে কাজ করার। উন্নয়ন হবে, তবে তা হতে হবে এমনভাবে যাতে প্রকৃতি বা মানুষের জীবিকা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায্যতা—এই তিনটি বিষয়ই ন্যায্য রূপান্তরের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। সমাজের প্রতিটি শ্রেণির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী মিলন বলেন, “বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যে দীর্ঘসূত্রতা চলছে, তা অব্যাহত থাকলে মানবসভ্যতাই হুমকির মুখে পড়বে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হলেও ক্ষতির তালিকায় শীর্ষে—এটি একটি নিদারুণ অন্যায়। আমরা চাই এমন উন্নয়ন, যেখানে কারো জীবন বা জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এখন সময় এসেছে কথার নয়, কাজের। তাই আসুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এগিয়ে আসি—কারণ সবকিছু হারানোর পর আক্ষেপ করে লাভ হবে না।”
আয়োজনের শেষ পর্বে ইয়ুথনেট গ্লোবালের সদস্যরা বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন আর কেবল বৈজ্ঞানিক ইস্যু নয়—এটি আমাদের জীবনের বাস্তব সংকট। তাই টেকসই উন্নয়ন, ন্যায্য রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় এখনই সময় যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়ার।”
উক্ত কর্মসূচিতে সহযোগী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব রেডক্রিসেন্ট বরিশাল জেলার সদস্যরা এবং রিনিউ আর্থ প্রতিনিধিরা।